পদুম্বা’ থেকে ‘পাবনা’ নামের উৎপত্তি। কালক্রমে পদুম্বাই স্বরসঙ্গতি রক্ষা করতে গিয়ে বা শব্দগত ব্যুৎপত্তি থেকে পাবনা হয়েছে। ‘পদুম্বা’ জনপদের প্রথম সাক্ষাৎ মিলে খ্রিষ্টীয় একাদশ শতকে পাল নৃপতি রামপালের শাসনকালে। প্রাচীন রাজ্য ‘পুন্ড্র বা পুন্ড্রবর্ধনের’ নাম থেকে পাবনা নামের উদ্ভব হতে পারে বলে ধারনা করেন- প্রত্নতাত্মিক কানিংহাম। তবে অপর একটি জনশ্রুতি আছে, ‘পাবনী’ নামক পূর্বগামিনী একটি নদীর মিলিত স্রোত ধারার নামানুসারে এলাকার নাম হয় পাবনা তবে এ ধারনাটি বর্তমানে ভিত্তিহীন কারন পাবনাতে কোন কালে পাবনী নামে কোন নদীর অস্তিত্ব ছিল না । অপর একটি সূত্রে জানা যায় ‘পাবন’ বা ‘পাবনা’ নামের একজন দস্যুর আড্ডাস্থলই এক সময় পাবনা নামে পরিচিতি লাভ করে।
পাবনা জেলার অবস্থান- রাজশাহী বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব কোণ সৃষ্টি করেছে পাবনা জেলা। এর উত্তর-পূর্ব দিক ঘিরে আছে সিরাজগঞ্জ জেলা।পূর্বে রয়েছে যমুনা নদী যা পাবনা-মানিকগঞ্জ জেলাকে পৃথক করেছে। পাবনার কাজীরহাট নামক স্থানে পদ্মা ও যমুনা নদী পরস্পর মিলিত হয়েছে। দক্ষিণে পদ্মা নদী একে ফরিদপুর ও কুষ্টিয়া জেলা হতে পৃথক করেছে। পশ্চিম অংশ জুড়ে রয়েছে নাটোর জেলা।
স্থানাঙ্ক– ২৪°২৪′৩৬.০″ উত্তর ৮৮°৫৫′৪৮.০″ পূর্ব
বিভাগ– রাজশাহী
পাবনা জেলার আয়তন মোট- ২৩৭১.৫০ কিমি (৯১৫.৬৪ বর্গমাইল)
পাবনা জেলার জনসংখ্যা- মোট ২৮,৬০,৫৪০ (২০১১ আদমশুমারী অনুযায়ী)
ঘনত্ব ১২০০/কিমি (৩১০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার– মোট ৯৮.৪৭%
সময় অঞ্চল– বিএসটি (ইউটিসি+৬)
প্রশাসনিক বিভাগের কোড– ৫০৭৬
পাবনা জেলায় উপজেলা রয়েছে মোট- ৯টি
উপজেলা সমূহ–
চাটমোহর উপজেলা
ভাঙ্গুড়া উপজেলা
আটঘরিয়া উপজেলা
ঈশ্বরদী উপজেলা
পাবনা সদর উপজেলা
ফরিদপুর উপজেলা
বেড়া উপজেলা
সাঁথিয়া উপজেলা
সুজানগর উপজেলা
উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব–
মহানায়িকা সুচিত্রা সেন বাংলা চলচিত্রের কিংবদন্তী
অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক সমাজী সাহেব
অবিভক্ত ভারতের কলকাতা হাইকোর্টের প্রথম বাঙালি বিচারপতি ব্যারিস্টার আশুতোষ চৌধুরী (১৮৬১-১৯৩৪)
পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর কেন্দ্র থেকে পর পর সাতবার নির্বাচিত লোকসভার সদস্য, ‘ঢাকুদা’ নামে অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যক্তি ত্রিদিব চৌধুরী (১৯১১-১৯৯৭)
বাংলা গদ্যরীতির সার্থক রূপকার প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬)
কবি প্রসন্নময়ী দেবী (১৮৫৭-১৯৩৯)
Advertisement
কবি প্রিয়ম্বদা দেবী
মেজর জেনারেল জ়ে.এন.চৌধুরী সাবেক ভারতীয় সেনাপ্রধান(১৯০৮-১৯৮৩)
সাইফুল আজম পৃথিবীর ২২ জন লিভিং ঈগলের একজন, যিনি এখন পর্যন্ত ইজরাইলের সর্বোচ্চ বিমান ধ্বংসের রেকর্ড অর্জন করেন। তিনি একই সাথে চারটি দেশের বিমান বাহীনিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান ফকরুল আজম
স্বাধীন দেশের প্রথম এয়ার চীফ- এ. কে খন্দকার
মেজর জেনারেল ফসিউর রহমান
বাংলার সিংহ পুরুষ বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল
নারীমুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিল (১৯৫০-২০১৬)
রাজেন্দ্র লাহিড়ী (২৩ জুন ১৯০১ – ১৭ ডিসেম্বর ১৯২৭), ব্রিটিশদের ভারত থেকে উৎখাত করার জন্য হিন্দুস্তান রিপাবলিকান এসোসিয়েশনের নানা বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
মোহিতমোহন মৈত্র (অজানা- ২৮ মে ১৯৩৩) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের বিপ্লবী।
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা কমরেড জসীম উদ্দিন।
কবি বন্দে আলী মিয়া একজন বাংলাদেশী কবি, ঔপন্যাসিক, শিশু-সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও চিত্রকর।
গীতিকার, সাহিত্যিক ও বাংলাদেশ বেতারের সাবেক পরিচালক ফজল-এ-খোদা
গীতিকার ও সঙ্গীতশিল্পী গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার
সঙ্গীতশিল্পী বাপ্পী লাহিড়ী
সঙ্গীতশিল্পী ডলি সায়ন্ত্বনী
সঙ্গীতশিল্পী বাদশা বুলবুল
জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার
Advertisement
খ্যাতিমান উপস্থাপক ফজলে লোহানী
উপমহাদেশের অন্যতম প্রথম নারী অভিনেত্রী নায়িকা ডা.রওশন আরা (১৯৪০–২০১০)
জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী
অভিনেতা আজিজুল হাকিম
অভিনেতা শাহনাজ খুশি
চলচিত্র পরিচালক আজাদি হাসানত ফিরোজ
অভিনেতা মাসুম আজিজ
চলচ্চিত্র অভিনেতা ও পরিচালক বৃন্দাবন দাস
চলচ্চিত্র পরিচালক রেদওয়ান রনি
মাহমুদা সুলতানা সর্ব কনিষ্ঠা “ইনোভেটর আব দ্য ইয়ার-২০১৭” বিজয়ী। তিনি সবচেয়ে কম বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সর্বোচ্চ পুরষ্কার ইনোভেটর অব দ্য ইয়ার অর্জন করেন।
সেলিম শাহরিয়ার আইনস্টাইনের তত্ত্বের সত্যতা গবেষণায় গঠিত গবেষক সদস্য।
স্কয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবসায়ী স্যামসন এইচ চৌধুরী
ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু এমপি
মোঃ মকবুল হোসেন এমপি, পাবনা౼৩ এলাকা, সভাপতি, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পকীত স্থায়ী কমিটি, ১০ম জাতীয় সংসদ, ౼কৃষি ক্ষেত্রের উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য “বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক ১৪২৩ এ স্বণঁ পদক অজন করেন৷”
বিখ্যাত খাবার– ঘি, রসমালাই
বিখ্যাত স্থান সমূহ–
১। ভাঁড়ারা শাহী মসজিদ- ১৭৫৭ বাদশাহ শাহ আলমের রাজস্ত কালে দৌলত খা পুত্র আসালত খা ভাঁড়ারা শাহী মসজিদ নির্মান করেন। ৩ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি শুধু মাত্র গম্বুজ দ্বারা বেষ্টিত। অনেক পুরাতন মসজিদ হলে এর আকৃতি এবং অবস্থান অনেক আকর্ষনীয়। মসজিদের পূর্বপাশে ফকির শাহ’র মাজার রয়েছে, মাযারটি খুবই লম্বা আকৃতির। জনশ্রুতি আছে ভাঁড়ারা ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ এক রাতে নির্মান হয়েছে। ভাঁড়ারা শাহী মসজিদ শাহী শাসন আমলে একটির উজ্জল দৃষ্টান্ত এবং ঐতিহ্য বহন করে।প্রতি শুক্রবারে শত শত মানুষ জুম্মার নামাজ আদায় করার জন্য উপস্থিত হয়।
অবস্থান- পাবনা সদর উপজেলা থেকে ১২ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ কর্ণারে ভাঁড়রা ইউনিয়নে অবস্থিত।
২। জোড় বাংলা মন্দির- স্থানীয় জনশ্রুতি অনুসারে, জোড় বাংলা মন্দিরটি ১৮ শতকের মাঝামাঝি সময়ে নির্মাণ করা হয়েছিল। এছাড়াও এটাও প্রচলিত যে, মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন, ব্রজমোহন ক্রোড়ী নামক একজন যিনি মুর্শিদাবাদ নবাবের তহশীলদার ছিলেন। তবে মন্দিরটি আবিষ্কারের সময় কোন শিলালিপি পাওয়া না যাওয়ায় এর সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায় না। দেয়ালের নকশা ও কারুকার্যের ভিত্তিতে ধরা হয় এটি কান্তনগর মন্দির-এর অনুরূপ স্থাপনা।
অবস্থান- পাবনা সদর উপজেলার থেকে ১.২কি.মি পূর্বে রাঘবপুর মহল্লায় অবস্থিত।
৩। তাড়াশ বিল্ডিং- পাবনা শহরের প্রাণকেন্দ্রে বনমালী রায় বাহাদুরের তাড়াশ বিল্ডিং এখন পর্যন্ত প্রায় অক্ষত অবস্থায় আছে। পাবনার জমিদারদের মধ্যে সবচেয়ে নামকরা এবং পুরাতন বলে পরিচিত এই তাড়াশের জমিদার। সে সময়ের ভূস্বামী পরিবারগণই জমিদারবংশীয় বলে অভিহিত। বগুড়া জেলার চান্দাইকোণার কাছে ‘কোদলা’গ্রামে একঘর কায়স্থজমিদার ছিলেন; এই জমিদারই তাড়াশের রায়বংশের পূর্বপুরুষ বাসুদেব। তাড়াশের এইপরিবার ছিল পাবনা জেলার সবচেয়ে বড় জমিদার। বাসুদেব নবাব মুর্শিদকুলি খানেররাজস্ব বিভাগে চাকরি করে প্রতিষ্ঠা করেন রাজবাড়ী।
অবস্থান- পাবনা শহরের প্রাণকেন্দ্রে ৬০০মিটার দক্ষিণে অবস্থিত।
৪। পাবনা ক্যাডেট কলেজ- পাবনা ক্যাডেট কলেজ পাবনার একটি সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি দেশের প্রাচীন দশটি ক্যাডেট কলেজের মধ্যে অন্যতম; যা ১৯৮১ সালের ৭ আগষ্ট ‘পাবনা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ’ থেকে ‘ক্যাডেট কলেজ’-এ রূপান্তরিত হয়। মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে এর অবস্থান।
অবস্থান- পাবনা ক্যাডেট কলেজ পাবনা জেলার জালালপুরে, ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত। পাবনা শহর থেকে এটি ৬ কিমি দূরে অবস্থিত যা বাগচিপাড়া বাজারের কাছে।
৫। প্রশান্তি ভুবন বিনোদন পার্ক/ রত্নদ্বীপ রিসোর্ট
অবস্থান- পাবনা শহর থেকে ২.৭কি.মি পূর্বে অবস্থিত।
৬। শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র টেম্পল- শ্রী শ্রী অনুকূল চন্দ্রের পিতা-মাতার স্মৃতিরক্ষার্থে এই মন্দির নির্মিত। মন্দিরের সম্মুখ প্রাসাদে ‘স্মৃতি মন্দির’ কথাটি পাথরের উপরে উৎকীর্ণ করা আছে। অনুকূলচন্দ্র ‘সৎসঙ্গ’ নামে একটি জনহিতকর সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। প্রকৃত অর্থে অনুকূল ঠাকুর মানবকল্যাণে তাঁর জায়গা-জমি যথাসর্বস্ব উৎসর্গ করে গেছেন। স্মৃতিমন্দিরটি অন্যান্য ইমারতের তুলনায় এখনো সুসংরক্ষিত অবস্থায় আছে। সম্প্রতি নব নির্মিত সৎসঙ্গ-আশ্রম-মন্দির সমন্বয়ে গঠিত স্থাপত্য নিদর্শনটি সহজেই সবার দৃষ্টি আকর্ষন করে। তবে বর্গাকৃতির ভবনটির শীর্ষদেশ চারটি ত্রিভূজ আকৃতির ক্রমহ্রাসমান ছাদে আচ্ছাদিত ছিল। এ মন্দিরের শিখর ক্ষুদ্রাকৃতির কলস ফিনিয়ালে আকর্ষনীয় বৈশিষ্টমন্ডিত ছিল।
অবস্থান- পাবনা শহরের সন্নিকটে হেমায়েতপুর গ্রামে(মানসিক হাসপাতালের পেছনে) শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের সৎসঙ্গ(আশ্রম-মন্দির) টি অবস্থিত।
৭। পাবনা মানসিক হাসপাতাল- পাবনাকে যে কারনে সবাই চিনে থাকে সেটা হল পাবনা মানসিক হাসপাতাল বা পাগলাগারদ। এটি ভারতীয় উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশ এর একমাত্র মানসিক হাসপাতাল। মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী, অসুস্থ অথবা আহতকে ঔষধ ও শল্যচিকিৎসা এবং যথাযথ সেবাশুশ্রূষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। ১৯৫৯ সালে জেলা শহর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে হেমায়েতপুরে ১৩৩ একরের একটি চত্বরে হাসপাতালটি স্থানান্তরিত হয়। ব্যাতীক্রমধর্মী এই প্রতিষ্ঠানটি দেখতে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী ভীর জমায়।
অবস্থান- পাবনা শহরের সন্নিকটে ৪কি.মি, পশ্চিমে হেমায়েতপুর গ্রামে মানসিক হাসপাতালটি অবস্থিত।
৮। সমন্বিত লাগসই কৃষি প্রযুক্তি জাদুঘর- পাবনা সদর উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম ও নারী শিল্প উদ্যোক্তা সোহানী হোসেন জেলার কিছু মানুষের সহযোগিতায় ২০০৮ সালে মাত্র ৩৭ শতাংশ জমির ওপর ব্যতিক্রমী এই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে রয়েছে মৌমাছি, হাঁস, খরগোশ, কোয়েল পাখি পালন, খাঁচায় ও পলিথিনে মাছচাষ, ড্রাম সিডার, মাশরুম চাষ, ভাসমান সবজি বাগান, বায়োগ্যাস প্লান্ট, সৌর বিদ্যুত্, বৃষ্টির বিশুদ্ধ পানি ধারণ পদ্ধতিসহ আধুনিক কায়দায় স্বল্প খরচে বিভিন্ন কৃষিজ যন্ত্রের প্রদর্শনী।
অবস্থান- পাবনা সদর উপজেলা পরিষদের সামনে অবস্থিত লাগসই প্রযুক্তি জাদুঘর ।
৯। চাটমোহর শাহী মসজিদ- ৫০০ বছরের পুরনো এই মসজিদটি মুঘল আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১৫৮১ খৃীষ্টাব্দে সম্রাট আকবরের সেনাপতি মাসুম খাঁ কাবলি এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। তার নামানুসারে মসজিদটির নামকরন করা হয় মাসুম খাঁ কাবলির মসজিদ। কালক্রমে এলাকার নামানুসারে মসজিদটির নামকরন করা হয় চাটমোহর শাহী মসজিদ। বার্তমান নামে মসজিদটি পরিচিতি থাকলেও বইপত্রে এখনো মাসুম খাঁ কাবলির মসজিদ নামেই উল্লেখ রয়েছে। মসজিদটির ভেতরে দৈর্ঘ্য ৩৪ হাত, প্রস্থ ১৫ হাত, উচ্চতা প্রায় ৩০ হাত। ক্ষুদ্র পাতলা নকশা খচিত লাল জাফরী ইটে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। মসজিদের দেয়ালটি সাড়ে চার হাত প্রশস্থ। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির সামনে ইদারার গায়ে কালেমা তাইয়েবা লিখিত একখন্ড কালো পাথর এখনো প্রোথিত।
অবস্থান- চাটমোহর উপজেলা হতে ২০০ গজ দূরে অবস্থিত। এক কথায় উপজেলা গেটের মুখোমুখি অবস্থানে মসজিদটি।
১০। সমাজ শাহী মসজিদ- ১৫৪৯ সালে তৎকালীন দিল্লীর শাসক শেরশাহের পুত্র সুলতান সেলিম সমাজ শাহী মসজিদটির নির্মাতা বলে জানা যায়। প্রাচীন স্থাপত্য কলার উজ্জল দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় এর নির্মাণ কৌশলে। মসজিদটি ৩ গম্বুজ বিশিষ্ট হলেও মসজিদটির ৪ কোণে আরো ৪ টি ছোট স্তম্ভ গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের ভেতরে ও বাইরের দেয়ালে রয়েছে দু’টি কৃষ্ণবর্ণ পাথর। পাথর রয়েছে পবিত্র কোরআনের খোদাই করা আয়াত। জনশ্রুতি রয়েছে এ মসজিদ থেকে কোরআনের আয়াত লিখিত দু’টি শিলালিপি ১৯৪২ সালে ভারতের যাদুঘরে নেয়া হয়েছে। মসজিদটির দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রয়েছে হযরত আশরাফ জিন্দানী (রহঃ) এর মাজার। তার পাশেই রয়েছে একটি বিশাল দীঘি।
অবস্থান- পাবনার চাটমোহর থানার শেষ প্রান্তে ১৫ কিঃমিঃ উত্তর পূর্বে সমাজ গ্রামে রয়েছে প্রাচীন স্থাপত্য শিল্পের অপূর্ব নিদর্শন শাহী মসজিদ।
১১। হান্ডিয়াল জগন্নাথ মন্দির- প্রত্নতত্ত্ববিদগণ ধারণা করেন, জগন্নাথ মন্দিরটি ১৫ শতকের শুরুর দিকে নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে মন্দিরের গায়ে পাওয়া শিলালিপি অনুসারে জানা যায়, ১৫৯০ সালে ভবানীপ্রসাদ নামে জনৈক এক ব্যক্তি মন্দিরটি সংস্কারের কাজ করেছিলেন। হান্ডিয়াল মন্দিরটি এক দরজা বিশিষ্ট একটি ছোট মন্দির যা ইট ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। মঠটির উপরের দিকেই সিঁড়ি ক্রমশই ছোট হয়ে গিয়েছে। মন্দিরের মাসনের দেয়ালে ট্যারাকোটার নকশা করা রয়েছে ও পুরো মঠটি একটি শক্ত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত।
অবস্থান- চাটমোহর উপজেলা সদর থেকে ১৩.২ কি.মি. উওরে হান্ডিয়াল ইউনিয়নে অবস্থিত।