• ঈশ্বরদী

    পদ্মা-যমুনার পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই, হাজারো বিঘা ফসলি জমি প্লাবিত

      সংবাদ ডেস্ক ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১১:৪৪:২৩ প্রিন্ট সংস্করণ

    উজানের ঢলে হঠাৎ বাড়তে শুরু করেছে পাবনা অঞ্চলে পদ্মা ও যমুনা নদীর পানি। এরই মধ্যে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে পাবনার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

    পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষীকুণ্ডা, ডিগ্রীর চর, দাদাপুর, চর কুড়ুলিয়াসহ বিভিন্ন চরাঞ্চল এবং সদর উপজেলার চর ভবানিপুর, শানিকদিয়ার এলাকার হাজারো বিঘা ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোমরসমান, আবার কোথাও হাঁটুপানি জমেছে মাঠে। এতে আগাম জাতের বিভিন্ন ফসল, সবজি ও অন্যান্য আবাদ নিয়ে কৃষকদের স্বপ্ন এখন শঙ্কায় পরিণত হয়েছে।

    স্থানীয় কৃষকরা জানান, জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল ও সবজি আবাদ করে ভালো ফলনের আশা করেছিলেন তারা। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানে নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকায় অনেক জমি তলিয়ে গেছে। পানি আরও বাড়তে থাকলে অবশিষ্ট ফসলও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পাবনার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর বিপদসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। সোমবার সকালে সেখানে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ০৬ মিটার। অর্থাৎ বিপদসীমার মাত্র ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি। অন্যদিকে যমুনা নদীর আরিচা পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮৩ মিটার, যেখানে বিপদসীমা ৮ দশমিক ৯৫ মিটার।

    নদীর পানি বাড়তে থাকায় চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নতুন করে আরও ফসলি জমি ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। নদীতীরবর্তী এলাকায় পানি বাড়তে থাকায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছেন কৃষকরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার পাশাপাশি সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়ার দাবি তাদের।

    এদিকে বন্যায় এখন পর্যন্ত প্লাবিত জমির পরিমাণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ কোনো পরিসংখ্যান প্রশাসনের হাতে নেই। তবে পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ১০০ টনের কাছাকাছি জিআর চাউল, ৩০০ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং নগদ সহায়তার জন্য বরাদ্দ রয়েছে। জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক দুর্যোগ সংক্রান্ত কমিটির মাধ্যমে খোজখবর নেওয়া হচ্ছে।