
সংবাদ ডেস্ক ৭ নভেম্বর ২০২৬ , ১:৪৬:১৫ প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মূল চেতনা ছিল দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আধিপত্যবাদ প্রতিরোধ এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা। বর্তমানে বিএনপি সরকার জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এলেও জনগণের গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন উপেক্ষা করে চলছে। সরকারের উচিত গণভোটের রায়কে সম্মান জানিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে আলহাজ্ব আছির উদ্দিন সরদার অডিটোরিয়ামে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাবনা জেলা শাখা আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পাবনা জেলা জামায়াতের নবনির্বাচিত আমির মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান ও প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান।
প্রধান অতিথি এটিএম আজহারুল ইসলাম ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল তৎকালীন সরকার প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামল থেকেই। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মানুষ আশা করেছিল তাদের মৌলিক চাহিদা, জানমালের নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও বাসস্থানের উন্নতি ঘটবে। কিন্তু বাস্তবে এর বিপরীত পরিস্থিতি তৈরি হয়। সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন বৃদ্ধি পায় এবং সমাজে নানা ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়। একপর্যায়ে ১৫ আগস্টের ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের কিছু লোকের মাধ্যমে সরকার গঠিত হলেও আধিপত্যবাদের প্রভাব ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেই সরকারও টিকতে পারেনি। পরবর্তীতে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে জিয়াউর রহমানকে বন্দি করা হয়। সাধারণ সিপাহি ও সাধারণ জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ৭ নভেম্বর তাঁকে মুক্ত করা হয়।
জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, মুক্ত হওয়ার পর জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক দল গঠন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। পূর্ববর্তী সরকারের বন্ধ করে দেওয়া সংবাদপত্রগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়ায় জনগণ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ পায়। তাঁর সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করে জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয়। তিনি চাঁদাবাজি ও রাহাজানির মতো কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেননি বলেও উল্লেখ করেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্থানের পথ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি জনগণের চাহিদা ও কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের বেনিফিশিয়ারি দল বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। কিন্তু জিয়াউর রহমানের বিএনপি এবং বর্তমান বিএনপির মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এলেও জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে পিছিয়ে রয়েছে। জনগণ গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছে। অথচ সরকার সেই গণরায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উপেক্ষার মনোভাব দেখাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে কোনদিনই কোন সরকার টিকে থাকতে পারেননি। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, সময়ের প্রয়োজনে দেশ গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জনগণ প্রত্যাশা করে।
তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের যে চেতনা ছিল, তা হলো দেশের উন্নয়ন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের চাহিদা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা। বর্তমান সরকারের উচিত সেই চেতনাকে ধারণ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
পাবনা জেলা জামায়াতের নবনির্বাচিত আমিরের শপথ গ্রহণ
নীতি-নৈতিকতা অটুট রেখে জনগণের সেবায় কাজ করতে হবে: এটিএম আজহারুল ইসলাম
পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত আমির মো. নজরুল ইসলাম শপথ গ্রহণ করেছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে আছির উদ্দিন সরদার অডিটোরিয়াম এক অনুষ্ঠানে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী আমির ও জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, নীতি-নৈতিকতা অটুট রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনকল্যাণে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে হবে। জনগণের দোরগোড়ায় সেবামূলক কর্মকাণ্ড পৌঁছে দিতে হবে। দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে সততা ও দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। সব কাজই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন, জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু সালেহ মো. আব্দুল্লাহ ও এস এম সোহেল।
এ ছাড়া পাবনা জেলা জামায়াতের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য, বিভিন্ন উপজেলা ও পাবনা পৌর শাখার আমির-সেক্রেটারি এবং ৬ নম্বর ৮নম্বর
ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রুকনরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।












|
সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি
০৭ নভেম্বর ২০২৬ (শনিবার)
|
||
|---|---|---|
| বিভাগ | সাহরি শেষ | ইফতার |
| ঢাকা | --- মিঃ | --- মিঃ |
| চট্টগ্রাম | --- মিঃ | --- মিঃ |
| সিলেট | --- মিঃ | --- মিঃ |
| রাজশাহী | --- মিঃ | --- মিঃ |
| বরিশাল | --- মিঃ | --- মিঃ |
| খুলনা | --- মিঃ | --- মিঃ |
| রংপুর | --- মিঃ | --- মিঃ |
| ময়মনসিংহ | --- মিঃ | --- মিঃ |





