
সংবাদ ডেস্ক ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৬:৪৬:৪৪ প্রিন্ট সংস্করণ
বর্ষা এলেই পদ্মফুলে রঙিন হয়ে ওঠে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সোনাকান্ত বিল। পদ্মপাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে থাকা গোলাপি-সাদা পদ্ম দেখতে প্রতিবছরই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। তবে এবার বিলজুড়ে পদ্মপাতা ও আগাছার সমারোহ থাকলেও চোখে পড়ছে না কাঙ্ক্ষিত পদ্মফুল। ফলে পদ্মের সৌন্দর্য দেখতে এসে হতাশ হয়ে ফিরছেন দর্শনার্থীরা।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের আমডাঙ্গা গ্রামের পাশে সোনাকান্ত বিলের অবস্থান। প্রায় ৪০ বিঘা জমিজুড়ে বিস্তৃত বিলটিতে বছরে একবার বোরো ধান চাষ হয়। নিচু এলাকা হওয়ায় বর্ষাকালে ছয় মাসেরও বেশি সময় পানিতে ডুবে থাকে বিলটি। আর এ সময়েই প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয় পদ্ম।
স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই সোনাকান্ত বিল ‘পদ্মবিল’ নামে পরিচিত। কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে বিলজুড়ে প্রচুর পদ্মফুল ফুটে আসছে। পদ্মের সৌন্দর্যের কারণে এর পরিচিতি আশপাশের জেলাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পদ্মফুলে ভরা বিলের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দর্শনার্থীদের আনাগোনাও বেড়ে যায়। তবে এবার পদ্মফুল দেখতে এসে হতাশ হতে হচ্ছে অনেককে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিলের বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে পদ্মপাতা। কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে পদ্মের শুকনো ডাঁটা ও আগাছা। কিন্তু চোখে পড়ার মতো পদ্মফুল নেই। অথচ আগের বছরগুলোতে একই বিলের পদ্মফুলে ভরা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমাহমুদ, রুবেল ও সোহেলসহ অনেকে জানান, কয়েক বছর ধরে বর্ষাকালে সোনাকান্ত বিল পদ্মফুলে ছেয়ে থাকে। পদ্মফুলের কারণে এলাকাটির পরিচিতিও বেড়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ফুল দেখতে এখানে আসেন। তবে অনেক দর্শনার্থী বিলের পানিতে নেমে ফুল ও কলি ছিঁড়ে নিয়ে যান। এতে ফুটে থাকা ফুলগুলো অল্প সময়ের মধ্যেই কমে যায়।
এবারও মৌসুমের শুরুতে কিছু পদ্মফুল ফুটেছিল। কিন্তু দর্শনার্থীদের ফুল ছেঁড়ার কারণে সেগুলো দ্রুত কমে যায়। পাশাপাশি প্রাকৃতিক কারণেও এবার ফুলের পরিমাণ কম।
সোনাকান্ত বিলে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী সুমাইয়া মেহজানিম জুই বলেন, ফেসবুকে সোনাকান্ত বিলের অনেক সুন্দর ছবি ও ভিডিও দেখেছি। চারদিকে শুধু পদ্ম আর পদ্ম—এমন দৃশ্য দেখেই বান্ধবীদের নিয়ে এখানে এসেছি। কিন্তু এসে দেখি পদ্মপাতা আছে, ফুল নেই। আমরা ভেবেছিলাম বিলের মধ্যে গিয়ে পদ্মফুলের সঙ্গে ছবি তুলব, ঘুরব; কিন্তু সেই সুযোগই হলো না। আগের বছরের ছবির সঙ্গে এখনকার দৃশ্যের কোনো মিল নেই।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পদ্মফুলের সৌন্দর্য দেখতে আসা মানুষের আগ্রহ যেমন বিলটিকে পরিচিত করেছে, তেমনি দর্শনার্থীদের অসচেতন আচরণও সেই সৌন্দর্য দ্রুত নষ্ট করছে। অনেকেই ফুলের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে ফুল ও কলি ছিঁড়ে ফেলেন। কেউ কেউ পদ্মপাতা ও গাছের ওপরও পা দেন। এতে পরবর্তী সময়ে ফুল ফোটার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সুগন্ধায় বিলীন মসজিদ-বসতভিটা, ভাঙনের মুখে বাবুগঞ্জ বাজার
স্থানীয়দের দাবি, সোনাকান্ত বিলকে দর্শনীয় স্থান হিসেবে ধরে রাখতে হলে পদ্ম ও বিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। দর্শনার্থীদের ফুল না ছেঁড়া এবং বিলের জলজ উদ্ভিদের ক্ষতি না করার বিষয়ে সচেতন করা প্রয়োজন।
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি বলেন, পদ্ম একটি জলজ উদ্ভিদ। পাখির মাধ্যমে পদ্মের বীজ বিভিন্ন জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখান থেকে গাছের বিস্তৃতি ঘটে। অনুকূল পরিবেশ পেলে বিলজুড়ে পদ্মের বিস্তার হয়। সোনাকান্ত বিলেও পদ্মের বিস্তৃতি প্রাকৃতিকভাবেই হয়েছে। এ ধরনের জলজ উদ্ভিদ ও এর পরিবেশ রক্ষা করা গেলে ভবিষ্যতে আবারও বিলটি পদ্মফুলে ভরে উঠতে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, বিলের সৌন্দর্য রক্ষার বিষয়টি যাচাই করে দেখা হবে। বিলের সৌন্দর্য ও জলজ পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








